Showing posts with label ক বি তা. Show all posts
Showing posts with label ক বি তা. Show all posts

ক বি তা

রাফসান গালিব

পরাজিতের গল্প

ছিঁড়তে ছিঁড়তে ছিঁড়েই গেল সুতো
কষ্টগুলো বৃথাই গেলো
চোখ ফেটে জল এলো
উড়তে উড়তে ঘুড়িটা আর উড়লো না তো।

শূন্যে শূন্যে অশূন্যতায়
ইচ্ছাগুলোর ঝগড়া বাঁধায়
অবুঝ বালক রাতদুপুরে
ঢিলটা ছুড়ে মন অদূরে।

পড়তে পড়তে পাতালঘরে
ঢিলটা পীর সুরত ধরে
ডুবায় দেহ নদীর জলে
জড়ায় এ কোন ঊর্ণাজালে!

দেখতে দেখতে দক্ষিণাতে
উড়লো ঘুড়ি মেঘের সাথে
পক্ষী উড়ে ঘুড়ি উড়ে
উড়তে উড়তে অচিনপুরে।

অবুঝ বালক দাঁড়িয়ে থাকে
তেপান্তরের মাঝখানে
বুঝে বুঝে বুঝেনি তো
হারলো সে আজ কোন দানে।


অনুপদ্য -১

অন্ধকারে বীজ বুনো না
ফসল তুলতে হোঁচট খাবে,
বুনতে পারো স্বপ্ন তুমি
জাদুর প্রদীপ নাগাল পাবে!
আদি ঈশ্বর

যুগে যুগে কিংবদন্তীরা
হানা দেয় কালের অন্দরমহলে
কেড়ে নেয় সব নিরবতা

অনেতিহাসের প্রসব বেদনায়
চিৎকার করে অজাত শিশু
ঘুম ভাঙায় কালপুরুষের
আর চন্দ্রগ্রহণে
কপাট খোলে আদি ঈশ্বর।

পানকৌড়ি

দিন শহরে কুমারি হওয়া রাতগুলো
তিন প্রহরে বস্ত্র হারায় পোয়াতিঘরে
আনাড়ি সব ডেলিভারীতে উল্টে থাকা
জোৎস্নাকাল,
পানকৌড়ি হয়,
নষ্ট হওয়া জলটুকু সব পান করে।


অনুপদ্য -২

সরলরেখায় দিলাম দেয়াল
ওপারে থাক
এপারে আমার পা,
বিন্দুটিকে রাখিস খেয়াল।

ক বি তা

ফারাহ্ শারমিন ঊর্মি

 বন্ধু
মাঝে মাঝে পৃথিবীটা এত বিষন্ন লাগে কেন
বুঝি না।
মনে হয় এখুনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যাই
বাঁচতে ইচ্ছে করে না। আবার মাঝে মাঝে
চিৎকার করে বলে উঠি “I want to live.

বিষন্ন মনে যখন বাইরে আকাশের দিকে
তাকাই, তখন আকাশের রঙগুলি দেখি
আকাশ আমাকে কত কথা যে বলে! তা
ভাষায় প্রকাশ করার মত নয়।

তাকাতেই দেয় না, বলে উঠে তুমি আমার
বন্ধু হবে? তখন মনটা পানির মত স্বচ্ছ-সুন্দর
হয়ে যায়। তখন, আর বিষন্ন মন নিয়ে
থাকতে পারি না।

কথা শুনেই আমার আগে আমার আত্মা
হেসে উঠে। তখন বুঝতে পারি
আমি একা নই।
অনেক স্বপ্ন দেখি। যা কাউকে বলা যায় না।
আকাশকে বলা যায়। কারণ সে তো আমার
নড়ংড়স ভৎরবহফ. যখন চাই, তখনই কথা
বলতে পারি।

কষ্ট-সুখ
যদি আমি জানতাম
কষ্টের রঙ নীল
আমি কখনো এ রঙে
নিজেকে রাঙাতাম না।
সুখের রঙ যদি সাদা হতো
তবে আমি শুভ্রতাকে কাছে পেতাম।
কষ্ট-সুখের মাঝে আমি যেন
আজ আর নেই।
কষ্টগুলো যেন আমাকে ঘিরে
আমি তাদের মধ্যমনি।
সুখ যেন আমাকে দেখে ভীত
কোন সাহসই তাদের আমার
কাছে আনতে পারে না।
কষ্টের নীল বর্ণ যেন সাদার
শুভ্রতাকে মুছে দিতে প্রস্তুত
তবে কি সুখ আজ পরাজিত?
না এ হতে পারে না
সুখ আসবে
বিজয়ীর বেশে
আমি তাকে অভিবাদন জানাতে প্রস্তুত।

মৃত্যুহীন স্বপ্ন
সূর্য জাগার আগে জেগে যায় স্বপ্নগুলো
জন্ম নেবার আগে জন্ম নেয়
সারাদিন-সারারাত কত কাজে ব্যস্ত
সময় দিতে পারি না
কিন্তু স্বপ্নগুলো!!!

তারা চলে ভেসে বেড়ায় নীল আকাশে
কান্ত হয় শরীর তবু তারা কান্ত নয়
চলতে থাকে অবিরাম...
ঘুমে চোখের পাতা বন্ধ হয়
বন্ধ হয় না স্বপ্নগুলো
আমি ভুলে যাই, স্বপ্ন আমাকে ভুলে না

ছন্নছাড়া জীবনে আজো স্বপ্ন আমার সাথী
রাত নামে সন্ধ্যা তারারা জ্বলে নিভে যায়
কিন্তু স্বপ্নের বাতিগুলো যেন শক্তি হারায় না

সবকিছুর শেষ দিন আছে
কিন্তু আমার স্বপ্নের নেই
তার শুধু জন্ম হয়, মৃত্যু নেই।

অবস্বাদ চেতনাগুলো

ক বি তা

শহিদুল ইসলাম

 বিকেল বেলা দেড়শ বছরের পুরনো দালানের ছাদে
পায়চারি করতে করতে
রেলিং ধরে দাড়াঁতেই দেখতে পেলাম লোকটাকে।
আমি ডাকতেই দূরে বহু দূরে রাস্তায় মিলিয়ে গেল,
সাাত পেলাম না।
কিছুদিন পর পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়তে গিয়েছিলাম-
টানা চার ঘন্টায় এক ঘেয়েমি চলে এসেছিল,
পঁয়তাল্লিশ মিনিট আনমোনা আনাগোনা ডিসি হিলে-
উদ্দেশ্যহীন চিন্তার উদ্রেক নিয়ে।
হঠাৎ দেখতে পেলাম সেই লোকটাকে, স্বতর্স্ফুত হাসিচ্ছ্বটায়।
পাশের ঝুঁপড়িতে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে দাঁিড়য়ে।
কাছে যেতেই তীহ্ম দৃষ্টি এড়িয়ে, উধাও লোকটি।
বলিভিয়া সরকারের অনুতাপ-মনোতাপ কেমন ছিল জানি না-
চে’কে নয়টি গুলি করে হত্যা করার পর।
পলাশীর যুদ্ধে ফরাসি সৈন্য সিনফ্রের কোন বিষাদ কাজ
করেছিল কিনা জানি না,
মীর জাফরের বিশ্বাস ঘাতকতায়, সিরাজ-উজ-দৌলার প নেওয়াতে।
অস্তিত্বের শিরায় শিরায় কোন অজানা উৎকণ্ঠায়
আমাকে জড়িয়ে ধরেছে জানি না,
অবস্বাদ-বিমর্ষে সুপ্ত চেতনাগুলো গুল্ম থেকে বেড়ে উঠছে না আজ আর।
ইতিহাসের হাজারো পাতায় খুঁজে ফিরি তাকে
অবস্বাদ নেপথ্যের অমলিন হাসিচ্ছ্বটা-
বিনিদ্র কোন রাতে যেমনটি খুঁজে ফিরি সেই লোকটাকে।
যান্ত্রিক জীবনের চেতনার যন্ত্রণা এমনি হয় মনে হয়।
বিবর্ণ-বিমর্ষের সভ্যতায়-
পূর্ণতার প্রতিচ্ছবি ভাস্মর হয় না এই পার্থিবতায়।

০০১.

ক বি তা

মঈদ উদ্দীন তৌহিদ

কেউ একজন বলে উঠল, চু-প,
এ-কদ-ম চু-প
কেউ শোরগোল করো না,
দেখতে পাচ্ছো না?
হ্যাঁ আমি দেখতে পেলাম
নিজের প্রতিচ্ছবিগুলোকে বৃত্তাকার পথে
একটি উজ্জ্বল বস্তুকে ঘিরে ধরতে দেখলাম।
বস্তুটির উজ্জ্বল রেখা আকাশ অব্দি চলে গেছে
আর সেটি আমার সত্ত্বার বিচ্ছিন্ন অংশগুলিকে
আকর্ষণ করে টেনে নিয়ে
বিচরণ করা শুরু করল।

আমি দেখতে পাচ্ছি,
স-ব দেখতে পাচ্ছি,
পিপিলিকার মত মানুষ, প্রকৃতির রূপ,
অট্টালিকা... সভ্যতা।
আমি শিহরিত, আনন্দিত, উদ্বেলিত
মনে প্রশ্ন উঁকি দেয়, আমি কি সকল
অভিজ্ঞতা অর্জনের অভিমুখে?
-যা কিছু আনন্দের।

নিজেকে আবার আবিষ্কার করলাম
এবার আর প্রতিচ্ছবি নয়
নিরেট অন্ধকারে নিরেট আমি একাকী-
এ কী! এ কার মধ্যে এসে পড়লাম?
অন্ধকার, দুর্গন্ধ- আমাকে ঘিরে
কিলবিল করছে কি যেন।
পোকামাকড়! মাটি কই? পা কোথায়?
বাঁচাও! প্রভু, আমাকে বাঁচাও!

পাঠক সংখ্যা

free counters